সোনাকাটা নামে পরিচিত সোনারচরের অবস্থান ভোলা জেলা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিন আমতলীতে। সবুজে ঘেরা সোনার চরের রয়েছে নিজস্ব এক সৌন্দর্য। এখানে আপনি সাগরে গোসল করতে পারবেন আবার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। এখানকার সৈকতে যেতে হলে আপনাকে সবুজে ঘেরা বনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এখানে রয়েছে নিশানাবাড়িয়া এবং সখিনার বন, বনবিভাগের দুটি অফিস এবং একটি ইকো পার্ক।
ঢাকা, চট্রগ্রাম থেকে বরিশালে সড়কপথে, নদীপথে এবং আকাশ পথে যেতে পারেন। বরিশাল থেকে ভোলায় আপনাকে সড়কপথে যেতে হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চে ভোলায় যেতে পারেন। ভোলায় হোটেল সী কুইনের কাছে এবং হোটেল মোটেল জোনে বিভিন্ন বাসের টিকেট কাউণ্টার আছে। সোনার চরে আপনি প্রচুর সাইকেল এবং রিকশা পাবেন।
বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার একটি হল ভোলা। ভোলার উত্তরে লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলা, নোয়াখালী জেলা, মেঘনা নদী ও শাহবাজপুর চ্যানেল এবং পশ্চিমে পটুয়াখালী জেলা অবস্থিত।
ঢাকার গাবতলি এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ভোলার উদ্দেশে নিয়মিত বাস ছেড়ে যায়। ভোলায় সড়কপথে যাওয়ার জন্য রয়েছে দুটি পথঃ একটি বরিশাল অতিক্রম করে এবং অপরটি লক্ষ্মীপুরের উপর দিয়ে।
ঢাকা থেকে ভোলায় বেশকিছু লঞ্চ সরাসরি যাতায়াত করে তাই আপনি নদীপথে ভোলা পৌছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে ভোলায় চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ
• এমভি ভোলা, ফোনঃ ০৪৯১-৬১২৩৬
• শ্রীনগর, ফোনঃ ০৪৯১-৬২৫২৩
• বালিয়া, ফোনঃ ০১৭১১৯০৫৪৭১
• কর্ণফুলী, ফোনঃ ০৪৯১-৫১৩৫৪
এই লঞ্চগুলো ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট এবং রাত ৮ টার মধ্যে ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং পরদিন ভোর ৬ টা থেকে ৬:৩০ মিনিটের মধ্যে ভোলায় পৌঁছে। এই লঞ্চগুলোতে প্রথম শ্রেণীর ভাড়া ৯০০/- টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ২০০/- টাকা।
ভোলায় থাকার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা। ভোলা জেলায় একটি সার্কিট হাউজ ছাড়াও প্রতি উপজেলায় রয়েছে উপজেলা পরিষদের অধীনে একটি করে বাংলো। এখানে বেশকিছু বেসরকারি হোটেল ও মোটেলও রয়েছে। আপনার সুবিধার্থে কিছু হোটেল সম্পর্কে তথ্য নিম্নে প্রদান করা হলঃ
1. হোটেল আহসান, ফোনঃ ০১১৯১৪২৬৩২২
2. হোটেল জাহান, ফোনঃ ০১৭১৬৮৭৯৯৭৫
3. হোটেল শীষমহল, ফোনঃ ০১৭১৮৩৩৫৩১১
4. হোটেল প্রিন্স, ফোনঃ ০১৭১২৭৬২৩৫৮
5. হোটেল গোল্ডেন প্লাজা, ফোনঃ ০১৭২৬৬৬৭২১৮
• বনের মধ্যে দিয়ে আপনি সমুদ্র সৈকতে যেতে পারেন। চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মোহিত করবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
আমতলীতে সোনার চর সড়কে আপনি বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট এবং খাবার হোটেল পাবেন। তবে সেখানকার খাবারের মান নিয়ে উচ্চাশা না করাই ভালো।
সোনার চরে আপনি নানা রকমের প্রাণী দেখতে পেতে পারেন যেমনঃ বানর, শূকর, কাঠবিড়ালি, মেছোবাঘ, লাল কাঁকড়া, সাপ ইত্যাদি। পর্যটকদের সুবিধার্থে সোনার চরের বনে প্রায় দুই কিলোমিটার অভ্যন্তরে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, বন বিভাগ এখানে বাঘ, হরিনের জন্য অভয়াশ্রম ছাড়াও একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে।
আপনার প্রশ্ন বা সমস্যার সহযোগিতা করায় আমরা সর্বদা তৎপর!